আসসালামুয়ালাইকুম আমি মোঃ ইমদাদুল হক। এসইও এর বাংলা টিউটোরিয়াল পর্বে আপনাকে স্বাগতম। আমি আপনাদেরকে বলেছিলাম যে, আমি ধারাবাহিকভাবে এসইও এর কোর্স আপনাদেরকে দিব। এবং যা থেকে আপনি বিগেনার থেকে খুব সহজেই এডভান্স লেভেলে পৌঁছাতে পারবেন। তো সেই ধারাবাহিকতায় আজকে আমরা মূলত শিখব এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন ইতিহাস সম্পর্কে।

গত পর্বে আমরা এসইও কি সে বিষয়ে সম্পূর্ণ ধারণা নিয়েছি। তো চলুন  আজকে আমরা এসইও এর ইতিহাস সম্পর্কে একটু জেনে নেই।

আমরা এসইও এর কথা শুনেছি। এসইও কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে জেনেছি। এসইও কি তা জেনেছি বাট এসইও এর আবির্ভূত হলো কিভাবে? বা কিভাবে এসইও আসলো? কিভাবে সার্চ ইঞ্জিন আসলো? বা সার্চ ইঞ্জিন ইতিহাস এই বিষয় গুলো কিন্তু এখনও আমরা আলোচনা করি নাই।
সার্চ ইঞ্জিন ইতিহাস সম্পর্কে  বলতে গেলে,  আজকের এই এসইও অনেক পরিবর্তনের ফল, এসইও বলতে আমরা মূলত গুগলকে বুঝে থাকি কিন্তু গুগোল সহ আরো যে সমস্ত সার্চ ইঞ্জিন আছে সেগুলোতে ও কিন্তু আমরা এসইও করব।

সার্চ ইঞ্জিন ইতিহাস

1991 সালে 6 আগস্ট Tim Berners-Lee এর হাত ধরে প্রথম ওয়েব পেজ পাবলিশ করা হয়। এর কয়েক বছর পর 1997 সালে প্রথম অফিসিয়াল এসইও এর যাত্রা শুরু হয়।
এবং 2001 সাল থেকে এসইও এর গুরুত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
Jerry Wang এবং David filo 1994 সালের জানুয়ারি মাসে ইয়াহু সার্চ ইঞ্জিন প্রতিষ্ঠা করেন। এবং সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে প্রথমে কিন্তু আবিষ্কার করা হয় yahoo.com
এবং গুগল প্রতিষ্ঠিত হয় 1998 সালে 4 সেপ্টেম্বর। Larry page এবং Sergey bring এর হাত ধরেই মূলত গুগলের জন্ম বা পথচলা শুরু হয়।
এখন বর্তমানে গুগলকে সার্চ ইঞ্জিনের অন্যতম এবং প্রধান সার্চ ইঞ্জিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইন্টারনেটের যতগুলো সার্চ ইঞ্জিন আছে তার মধ্যে 90% এর বেশি শেয়ার গুগলের। তাহলে বুঝতে পেরেছেন 90% ইউজার মূলত গুগল পেয়ে থাকে। আর বাদবাকি সকল সার্চ ইঞ্জিন পায় মাত্র 10 শতাংশ।
গুগলের অনেকগুলো সার্ভিস এবং প্রোডাক্ট রয়েছে যেগুলো মানুষ ব্যবহার করে তাদের বিজনেস স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে। এবং গুগোল মূলত এই সমস্ত সার্ভিস মানুষের কাছে বিক্রি করে ইনকাম করে থাকে।
শুধুমাত্র গুগল সার্ভিস বিক্রি করে না, এদের অনেক ফ্রি সার্ভিস আছে। যেগুলো থেকে মানুষ অনেক ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকে একদম ফ্রিতে।
1998 সালে goto.com স্পন্সর লিংক এবং পেইড সার্চ চালু করে যেখানে অর্গানিক রেজাল্ট প্রথমে থাকার জন্য পেইড ক্যাম্পেইন করা প্রয়োজন হয়।
Goto.com মূলত yahoo.com এর সাপোর্ট নিয়ে কাজ করছিলেন।
এরপর থেকে এই সকল সার্চ ইঞ্জিন গুলো বিভিন্ন সময়ে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী তাদের সার্চ ইঞ্জিনের অ্যালগরিদম গুলো আপডেট করার মাধ্যমে বর্তমান এসইও এ জায়গায় পৌঁছেছে।
আবিষ্কারের দিক দিয়ে yahoo.com সবার প্রথম হলেও প্রতিযোগিতার দিক দিয়ে google.com বর্তমানে সবচাইতে টপ রাঙ্কিং এ অবস্থান করছে।
আশা করি এসইও এর ইতিহাস সম্পর্কে অন্তত একটু হলেও ধারণা পেয়েছেন।
না বুঝে থাকলে আমাদের ওয়েবসাইটে seo-optimizers/ask এই লিংকের মাধ্যমে আপনার কোন কিছু জানার প্রয়োজন হলে আমাদেরকে মেসেজ করেন।
আশা করি আমাদের এসইও অপটিমাইজার টিম আপনার উত্তর খুব দ্রুত দেওয়ার চেষ্টা করবে।

এবার একটু এসইও এর ব্যসিক কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করি:

সার্চ ইঞ্জিন কি সেটা আমি প্রথম পর্বে আলোচনা করেছি যে, সার্চ ইঞ্জিন হল এমন একটি অনলাইন সফটওয়্যার, যার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ডাটাগুলো গুগলে অপটিমাইজ করে একজন ইউজার এর চাহিদা মত তার সামনে উপস্থিত হতে পারবেন। এবং সেখান থেকে আপনি আর্ন করতে পারবেন।
সার্চ ইঞ্জিন মূলত একটি উত্তর দাতা যন্ত্র। এগুলো ইন্টারনেট থেকে চব্বিশ ঘন্টা ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং সেই তথ্য তারা তাদের অ্যালগরিদমে জমা রাখে।
আপনি যখন আপনার প্রয়োজন মত বা আপনার চাহিদা অনুযায়ী কোন কিওয়ার্ড লিখে গুগলে সার্চ করেন,
তখন সে সেই আলগরিদম থেকে আপনার ডাটাকে বা আপনার তথ্য কে খুঁজে বের করে আপনার সামনে উপস্থাপন করেন।
সার্চ ইঞ্জিন কাজটি করে থাকে ইন্টারনেটে যত তথ্য পাওয়া যায়। যেমন: ওয়েবপেজ, টেক্সট, ইমেজ, ভিডিও, পিডিএফ ফাইল ইত্যাদি ক্রলিং করে এবং ইনডেক্সিং এর মাধ্যমে।
এখান থেকে google যাচাই করে যে, কোন তথ্যটি সর্বাধিক ভালো। এবং ইউজারের জন্য বেটার, সেই তথ্যটি গুগোল তার ডাটাবেজে সংরক্ষন করে রাখে।
তো আশা করি বুঝতে পেরেছেন এসইও এর ইতিহাস এবং এর ব্যসিক ধারণা।
তো যাই হোক বন্ধুরা দেখা হবে পরবর্তী টিউটোরিয়ালে সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং আমাদের সাথেই থাকবেন।
আগামী পর্বের আমন্ত্রণ জানিয়ে আজকের পর্ব থেকে আমি বিদায় নিচ্ছি।
আর আপনার যদি এসইও নিয়ে কোন রকমের কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট অ্যাড্রেস Tell me your opinion এই ঠিকানায় গিয়ে আপনার প্রশ্নটিই করুন, আমরা খুব দ্রুত আপনার প্রশ্নের উত্তর দিবো। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। দেখা হবে আগামী পর্বে আল্লাহ হাফেজ।