সালামালাইকুম এসইও বাংলা টিউটোরিয়াল এর পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি। গত পর্বে আমরা এসইও এর অর্গানিক ট্রাফিক নিয়ে আলোচনা করেছি আজকের আমি জন্য মূলত আলোচনা করব এসইও এর গুরুত্ব নিয়ে।

এসইও এর গুরুত্ব বোঝার জন্য আমরা গুগোল পিপিসি বা পেইড এডভারটাইজিং নিয়ে একটু আলোচনা করি। দেখুন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে গুগল থেকে ট্রাফিক দুইভাবে ড্রাইভ করতে পারেন।

একটা হল গুগোল পিপিসি থেকে ট্রাফিক ড্রাইভ এবং আরেকটি হলো অর্গানিক ভাবে ট্রাফিক ড্রাইভ অর্থাৎ ন্যাচারালি ট্রাফিক ড্রাইভ।

এই বিষয়টাকে আরেকটু ক্লিয়ার করার জন্য চলুন এই দুইটাকে নিয়ে আমরা একটু আলোচনা করি।

গুগোল পিপিসি-


ধরুন আপনার একটি ওয়েবসাইট আছে এবং আপনি সেই ওয়েবসাইটে ট্রাফিক ড্রাইভ করার জন্য আপনি গুগল ppc ক্যাম্পেইন চালালেন অর্থাৎ আপনি বিভিন্ন কিওয়ার্ড দিয়ে বিভিন্ন এরিয়া সিলেক্ট করে সেখানে আপনি আপনার PPC রান করলেন।

এবং ভিজিটর যখন ওই কীওয়ার্ড এর উপর ক্লিক করে আপনার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করবে তখন আপনার একাউন্ট থেকে টাকা কাটা হবে। এবং এখানে যে ভিজিটর গুলো আসবে। সেগুলো কিন্তু নিজের প্রয়োজনে নাও আসতে পারে।

দেখা গেল তারা একটা পণ্য খুজতেছে সেখানে আপনার লিংকটা পেয়েছে তাই হঠাৎ করে সে ক্লিক করলো এতে কী হলো আপনার কিন্তু খরচের পরিমাণ বেড়ে গেলো কিন্তু সেই অনুযায়ী আপনার সেল হলো না বা আপনার টার্গেট কিন্তু ফিলাফ হলো না।

এইদিকে আপনি যতদিন গুগলকে টাকা দেবেন ততদিন আপনার ওয়েবসাইটকে সে ভিজিটর এর সামনে উপস্থাপন করবে যখন আপনি টাকা দেবেন না তখন আপনার সাইট কেউ খুজে পাবে না।

আর আপনি যে কীওয়ার্ড গুলো সেট করবেন সেই কীওয়ার্ড অনুযায়ী কোন কোন কিওয়ার্ডে 2 ডলার 3 ডলার 5 ডলার রেটে আপনার ব্যালেন্স থেকে টাকা কেটে নেয়া হবে। এবং আপনার টাকা শেষ তো আপনার সাথে গুগলের সম্পর্ক শেষ। টপ পজিশনে আপনাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

এসইও করে ট্রাফিক ড্রাইভ

কিন্তু আপনি যখন ন্যাচারালি আপনার ওয়েবসাইটে এসইও এর মাধ্যমে অর্গানিক ভাবে যদি গুগলের সার্চের টপ পজিশনে রাখতে পারেন তাহলে যে বিষয়টা ঘটবে সেটা হল, ভিজিটর কিন্তু ফ্রিতে কোন টাকা পয়সা খরচ করতে হচ্ছে না অথচ সে কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটে ঢুকবে এবং তার প্রয়োজনীয় পণ্য সে সেখান থেকে কিনবে। তাহলে একবার ভাবুন তো আপনি কোনটা করবেন?

গুগলের টাকা দিয়ে আপনি টপ পজিশনে থাকবেন নাকি অর্গানিক ভাবে টপ পজিশনে থাকবেন? যেখান থেকে আপনার আনলিমিটেড ভিজিটর আসবে এবং আপনার প্রতিষ্ঠান বা আপনার ব্যবসার সেল বৃদ্ধি পাবে।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে ভাইয়া এসইও কি শুধু আমার প্রোডাক্টের বা কোন সার্ভিসের জন্য করব?? অন্য কোন সাইটের জন্য কি এসইও করবোনা??

আপনার অবশ্যই সকল প্রকার ওয়েবসাইটের এসইও করতে হবে। আমি শুধু আপনাকে বোঝানোর জন্য সেলস এর কথা উল্লেখ করেছি।

এখন ধরেন আপনার একটা ব্লগ আছে যেখানে আপনি গুগল এডসেন্স এর জন্য বিভিন্ন ধরনের information পাবলিস্ট করেন।

অথবা আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য কোন প্রোডাক্টের রিভিউ নিয়ে কাজ করছেন । আপনি যেটা ই করেন না কেন অবশ্যই আপনাকে আপনার ওয়েবসাইট কে এসইও করতে হবে এবং আপনি যদি টপ পজিশনে আসতে পারেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর ড্রাইভ হবে প্রচুর পরিমাণে এবং সেখান থেকে আপনি গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে এড দেখিয়ে বা অ্যাফিলিয়েট এর মাধ্যমে আপনি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

আপনি যেটাই করেন না কেন আপনার মূল টার্গেট হচ্ছে ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইটে নিয়ে আসা।

যাইহোক এতক্ষণে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন এসইও এর গুরুত্ব সম্পর্কে যে একটি ওয়েবসাইটের জন্য এসইও কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি একটা ওয়েবসাইট করলেন অথচ সেই ওয়েবসাইট সম্পর্কে কেউ জানলোই না তাহলে তো আপনার ওয়েবসাইট করে কোন লাভ হল না তাই না???

একটা ওয়েবসাইট করতে মিনিমাম একটা বাজেট দরকার পড়ে। তো আপনি যদি এসইও করতে নাই পারেন বা এসইও নাই করেন তাহলে সেই ওয়েবসাইট করার যে অর্থটা সেটা সম্পূর্ণ জলে চলে যাবে ।

পেইড মার্কেটিং করতে গেলে আপনাকে প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় করতে হবে।

সুতরাং একমাত্র উপায় হল ন্যাচারালি বা অর্গানিক ভাবে আপনার ওয়েবসাইটে ট্রাফিক ড্রাইভ করা। এতে করে আপনার ইনকাম স্থায়ী হবে এবং ভবিষ্যতে আপনি আপনার ওয়েবসাইট থেকে ট্রাফিক পেতেই থাকবেন এবং ইনকাম অটোমেটিক বাড়তে থাকবে।

আর একটা কথা একটা ভিজিটর যখন কোন পণ্যের রিভিউ সম্পর্কে সার্চ করে তখন সে কিন্তু সেই পণ্য টা কেনার জন্য মূলত সার্চ করে। বা কোন ইনফরমেশন লিখে সার্চ করে তখন কিন্তু সেই ইনফরমেশন পড়ার উদ্দেশ্য নিয়ে কিন্তু সে অনলাইনে সার্চ করে।

আর এই সমস্ত ভিজিটর যখন আপনার ওয়েবসাইটে আসবে তখন কিন্তু সে আপনার পণ্যের রিভিউ দেখে পণ্যটি কিনতে অথবা সে যদি কোন তথ্য জানার জন্য হয় তাহলে সে আপনার ওয়েবসাইটে সেই তথ্যটা পড়বে এবং আপনার ওয়েবসাইটে যখন গুগল এডসেন্স থাকবে তখন আপনার ইনকাম হতে থাকবে।