আচ্ছালামুআলাইকুম। সবাইকে স্বাগত জানিয়ে শুরু করছি আমাদের আজকের পর্ব। আজকে আমরা মূলত কথা বলবো এসইও নাকি গ্রাফিক ডিজাইন কোনটা শিখব?? বা কোনটা শিখলে ভবিষ্যতে আমাদের জন্য আরও অনেক ভাল হবে এই বিষয় নিয়ে।

পূর্বের পর্বে আমি কথা বলেছিলাম এসইও এবং ওয়েবসাইট ডিজাইন। সেখানে আমি এসইও নাকি ওয়েবসাইট ডিজাইন কোনটি শিখলে আপনাদের জন্য ভালো হবে সে বিষয়ে কথা বলেছি। আপনারা চাইলে সেটা দেখে আসতে পারেন।

কোনটা শিখলে ভালো হবে এসইও নাকি গ্রাফিক ডিজাইন ?

তো আজকে আমরা কথা বলবো এসইও নাকি গ্রাফিক ডিজাইন কোনটা শিখলে ভালো হবে সেই বিষয় নিয়ে। আপনাদের জন্য গ্রাফিক্স শিখলে ভালো হবে নাকি SEO শিখলে ভালো হবে? এই বিষয়গুলো নিয়ে আজকে চলুন বিস্তারিত জেনে আসি।

আপনি যদি অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়তে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই বেছে নিতে হবে আপনি কোনটা করবেন? আপনি ওয়েবসাইট ডিজাইন করবেন নাকি এসইও নাকি গ্রাফিক ডিজাইন?

ওয়েবসাইট ডিজাইন নিয়ে তো পূর্বে আমি কথা বলেছি। তো আজকে আমরা মূলত কথা বলব গ্রাফিক ডিজাইন এবং এসইও নিয়ে।

আপনি কোন সেক্টরে কাজ করবেন সেটা জানার আগে আপনাকে কাজের ধরন সম্পর্কে জানতে হবে। যে আপনি কোন কাজ শিখবেন আপনার হাতে সময় কতটুকু আছে ইত্যাদি??

আপনি যে কাজই করেন না কেন, সবগুলোতেই অনলাইনে অনেক ভালো কাজ আছে। কিন্তু এখন বিষয়টা হলো আপনার শিখতে কত সময় লাগতে পারে? অথবা সেই কাজটি আপনি করতে পারবেন কি-না এ বিষয়গুলোর উপরে ভালোভাবে ধারণা নিয়ে আপনাকে আগাতে হবে।

যাইহোক প্রথমে আমরা কথা বলবো গ্রাফিক্স ডিজাইন নিয়ে।

গ্রাফিক্স ডিজাইন বলতে আমরা কি বুঝি??

গ্রাফিক্স ডিজাইন মূলত লোগো ডিজাইন, ব্যানার ডিজাইন, এছাড়া ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বাটন আমরা দেখতে পারি। যেমন Download, Click Here ইত্যাদি বাটন থাকে। সে বাটনগুলো ডিজাইন করতে পারেন গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখে।

এরপরে বিভিন্ন কার্ড যেমন, বিয়ের কার্ড, হালখাতা কার্ড ইত্যাদি কার্ড ডিজাইন করেও আপনি অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।  এছাড়া আপনি শিখতে পারেন মোশন গ্রাফিক্স।

এছাড়া আরো অসংখ্য কাজ রয়েছে এ গ্রাফিক্স ডিজাইন সেক্টরে।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন থাকতে পারে যে, এত কাজ রয়েছে তাহলে আপনি একটা কাজের কথা বললেন কেন।

তাহলে আমি বলব আপনি যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন না বসে আছেন একটু আশে পাশে লক্ষ করুন।

দেখবেন বিভিন্ন দোকানে বা দেয়ালের সাথে পোস্টার টাঙানো আছে। যেখানে কোন না কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান তাদের কোম্পানির প্রচারের জন্য Add দিচ্ছে।

আবার আপনি কোন কিছু কিনতে যাবেন সাধারণ আপনি একটা চিপস কিনতে যাবেন, সেই ক্ষেত্রে চিপসের প্যাকেটটা সেটাও কিন্তু গ্রাফিক্স ডিজাইন করা হয়েছে। আবার আপনি যদি একটা বই নেন, বইয়ের উপরে যে মলাট বানানো হয়েছে সেটা কিন্তু গ্রাফিক ডিজাইন করা হয়েছে।

এখন বুঝতে পারছেন গ্রাফিক্স ডিজাইনে কত পরিমান কাজ বর্তমানে?? এবং ভবিষ্যতেও এই কাজটি আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করি।

মোটকথা আপনি যাই করেন না কেন, আপনি যে দিকেই তাকান না কেন যেদিকেই যান না কেন সকল দিকে আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ দেখতে পারবেন।

যাই হোক এগুলো ছাড়াও এখন আমরা গ্রাফিক ডিজাইনের একটি অন্যতম পার্ট গ্রাফিক ডিজাইন সার্ভিস নিয়ে আমরা কথা বলব।

গ্রাফিক্স ডিজাইন সার্ভিস কি??

খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন করেছেন, এখন আপনি অনলাইনে কোন কিছু কিনতে যান অথবা ফেসবুকে দেখবেন অনেক কোম্পানি তাদের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেল বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।

তারা যে লেখাগুলো লিখে গ্রাফিক ডিজাইনের মাধ্যমে আমাদের সামনে তাদের পণ্যের অফার করতেছে। আবার বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখবেন যেমন, একটা উদাহরণ দেই আপনি ফ্যাশন রিলেটেড কোন ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখবেন সেখানে অনেক মেয়ের ছবি, অনেক ছেলের ছবি অনেক সুন্দর ভাবে তাদের পোশাক পড়ে ছবি উঠানো হয়েছে।

এই যে ছবিগুলো প্রথমে এডিট না করেই কিন্তু তারা তাদের ওয়েবসাইটে পাবলিস্ট করেনি। তারা এই ছবিগুলো কে সার্ভিস করে নিয়েছে। হয়তো নিজেরা করেছে অথবা কোন কোম্পানিকে দিয়ে তারা এই ছবিগুলো এডিট করেছে। এই এডিট করা ছবিগুলোই মূলত গ্রাফিক ডিজাইন সার্ভিসের মাধ্যমে এডিট করিয়ে নেয়।

আপনি চাইলে এই কাজগুলো শিখতে পারেন।

এখন আমি কয়েকটি গ্রাফিক ডিজাইন সার্ভিসের কথা উল্লেখ করব। আপনি অনলাইন তথা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রচুর পরিমাণে কাজের অফার পাবেন অথবা প্রতি মাসে একটি মাসিক সেলারি হিসেবে আপনি কাজ করতে পারবেন।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতেছে নিশ্চয়ই? তাহলে কোন কোন কাজ কে মূলত গ্রাফিক সার্ভিস বলে।

নিচে আমি গ্রাফিক ডিজাইনের সার্ভিস গুলো তুলে ধরলাম আপনি ইউটিউব ভিডিও দেখে অথবা কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কোর্স করেও এই কাজগুলো শিখে নিয়ে পারেন।

  • Clipping path
  • Background removal
  • Image masking
  • Drop shadow
  • Ghost mannequin
  • Color variants
  • Photo retouching
  • Product photo-editing
  • Vector conversion
  • Image Manipulation
  • Color Correction
  • Amazon Infographic
  • Cropping And Resizing
  • Photo Cut Out
  • Headshot Retouching

আর এই কাজগুলো শিখতে আপনার সময় লাগবে মাত্র 6 মাস। কিন্তু আপনার এই কাজের পিছনে 2 থেকে 3 বসর যাবে স্কিলড অর্জন করতে।

তাহলে বুঝতেই পারছেন 2 থেকে 3 বসর কাজ করার পরে আপনাকে আর পিছন ফিরে দেখার সময় থাকবে না। যখন আপনি এক্সপার্ট হয়ে যাবেন তখন অনলাইন বা কোনো প্লাটফর্মে জব করেও অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারবেন।

এখন SEO নিয়ে কিছু কথা বলা যাক

আপনি গ্রাফিক ডিজাইনে যে সময় ব্যায় করবেন তার থেকে অনেক কম সময়ে এবং কম পরিশ্রমে SEO শিখে মাত্র তিন থেকে চার মাস পরেই আপনি বিভিন্ন প্লাটফর্মে কাজ করতে পারবেন খুব সহজেই।

কেননা বর্তমানে যে পরিমাণ এসইও এক্সপার্ট দরকার তার তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণ এসইওর কাজ মার্কেটপ্লেসে রয়েছে।

আপনি যদি কোন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে যান তাহলে দেখবেন সেখানে এসইও এর চাহিদা কি পরিমাণ রয়েছে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো। একটি ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করার জন্য দুই থেকে তিনজন এসইও অপটিমাইজার প্রয়োজন হয়।

এবং এই সেক্টরে একবার কোন সাইটের এসইও করলে সেটা সারা জীবন অর্থাৎ সাইটটা যতদিন থাকবে ততদিন ওই একটি ওয়েবসাইট এর এসইও করতে হবে।

তাহলে এখন ভেবে দেখুন পৃথিবীতে প্রতিদিন গড়ে কত পরিমান ওয়েবসাইট তৈরি হচ্ছে? এবং প্রত্যেকটি ওয়েবসাইটের কিন্তু এসইও করার প্রয়োজন পড়ছে।

আশা করি বুঝতে পেরেছেন এই সময় আপনি যদি এসইও কমপ্লিটলি শিখতে পারেন তাহলে আপনার কাজের কোন অভাব হবে না।

যাই হোক বন্ধু অনেক কথা বললাম সবাই ভাল থাকবেন দেখা হবে পরবর্তী কোনো একটা এপিসোড নিয়ে।

আপনার যদি আপনাদের কাছে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদেরকে অবশ্যই Tell me your opinion এই পেজে জানাবেন ।

সবাইকে আগামী পর্বের আমন্ত্রণ জানিয়ে আজকে এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সেই পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এসইও অপটিমাইজারস এর সাথেই থাকুন ধন্যবাদ সবাইকে আল্লাহ হাফেজ।

 

চাইলে দেখে আসতে পারেন

এসইও ইতিহাস : এসইও এর ব্যসিক ধারণা। A Brief History of SEO.

এসইও নাকি ওয়েবসাইট ডিজাইন : এসইও তে কাজের সুযোগ কতটুকু??

SEO তে ক্যারিয়ার: ক্যারিয়ার হিসেবে SEO কে বেছে নিন। ক্যারিয়ার গড়ুন SEO তে।